Home » ‎লাগামহীন ওয়ান এক্স বেট সম্রাট রাহাত বেপরোয়া

‎লাগামহীন ওয়ান এক্স বেট সম্রাট রাহাত বেপরোয়া

কর্তৃক NmRooNjnxB
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক সাতক্ষীরা বার্তা ০ কমেন্ট ভিউস

স্টাফ রিপোর্টারঃ দেশের সর্বশেষ উপকূলীয় সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের একটি দ্বীপ ইউনিয়নের নাম পদ্মপুকুর, ভৌগলিক অবস্থানে এর চারপাশেই কয়েকটি থানার সীমান্ত। আর এই প্রত্যান্ত এলাকার মানুষের এক সময়ের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম ছিলো মাছ চাষ ও মাছ ধরা। তবে বর্তমানে এই এলাকা এখন জেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে বেশ আলোচিত, কারন এখানেই নিয়ন্ত্রন হয় লাখ লাখ টাকার অনলাইন জুয়ার সাইটের লেনদেন। এই লেনদেনে দেশব্যাপী শীর্ষ মাস্টার এজেন্টদের হাতে গোনা কয়েক জনের মধ্যে একজন ওয়ান এক্স বেট সম্রাট খ্যাত রাহানুল ইসলাম রাহাত। সে এই ইউনিয়নের চালঘোলা গুচ্ছগ্রামের কাঠমিস্ত্রি হারুনার রশিদের ছেলে। হতদরিদ্র পরিবারের এক সময়ের ইট ভাটা শ্রমিক রাহাত এখন শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে ওয়ান এক্স বেট সম্রাট।
‎দেশজুড়ে মাদকের থেকে ভয়ংকর রূপ ধারন করেছে অনলাইন জুয়া। কৈশোর থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সের নারী পুরষ, দরিদ্র শ্রেণীর থেকে ধর্নাঢ্য সকল পর্যায়ের মানুষ এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে সর্বশান্ত

‎হচ্ছে। কেউ কেউ করছে আত্মহত্যা, ঠিক সম্প্রতি সময়ে রাহাতের প্ররোচণায় জুয়ায় আশক্ত হয়ে সম্প্রতি সময়ে একই এলাকার ওহেদ সানার ছেলে মোঃ কাজল সানা ও মহাসিন সানার ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান সানা আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

‎খুলনা, সাতক্ষীরা সহ রাহাতের নিজ এলাকায় তার রয়েছে শত শত বিঘা মাছের ঘের ও বিলান জমি। শ্যামনগরসহ জেলা শহরেও প্রচার রয়েছে রাহাত এসপি, ডিআইজি ছাড়া মেলা মেশা করে না। শুধুমাত্র পদ্মপুকুর এলাকাতে তার রয়েছে তার নিয়ন্ত্রিত শতাধিক মাস্টার এজেন্ট। কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই এলাকায় ভৌগলিক কারনে নেই তেমন কোন আইনি নজরদারি। অলিখিত এক মাশওয়ারা এর মাধ্যমে এখানকার আইনকে ম্যানেজ করে বলে জানান এলাকাবাসী।

‎এদিকে ওয়ান এক্স বেট সম্রাট নামক লাগামহীন রাহাত রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার এলাকা ছাড়িয়ে জেলা শহরের আলোচিত রাহাতের সম্পর্কে প্রচার আছে ডিআইজি এসপি সব তার পকেটে। এলাকাবাসী জানায়, রাহাত এলাকায় প্রচার করে, শ্যামনগর থানার ওসি, তদন্ত ওসি ও এএসআই ওলিউর রহমান তার কাছের লোক।

‎গত বছরের ১৫ জানুয়ারি, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা চালখোলা গুচ্ছগ্রাম নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানা পুলিশ। সেবার কারাভোগ করে বেড়িয়ে রাহাত হয়ে ওঠে আরো বেপরোয়া। পুরো শ্যামনগর উপজেলায় তার রয়েছে তিন শতাধিক কিশোর গ্যাং।

‎তথ্য অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে রাহাতের জুয়ার এজেন্টে ব্যবহারিত হোয়াটসএ্যাপ নম্বর ০১৭২৭-৬০৫১৮৩, ০১৯১০-৩৩৩৩০১, সিটি ব্যাংকে তার বাবার নামের একাউন্ট নম্বর: ২৩০৩৪৮-৬১৫৪০০১, তার নিজ নামীয় ওয়েস্টার্ন ব্যাংকের একাউন্ট: ৪৫২০১৭২৪০৬০৭৬৮৩৬, তার বিকাশ পেমেন্ট মার্চেন্ট নম্বর: ০১৯১০-৩৩৩৩০১ এবং তার বিকাশ ও নগদ এজেন্ট নম্বর: ০১৭১০-৭৮৩৮৭৭। জানা গেছে জেলায় মোবাইল এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা, নগদ ও বিকাশের ডিলাররা সরাসরি এই জুয়ার টাকা লেনদেনে জড়িত। যার কারনে প্রতিষ্ঠান ও সঠিক তথ্য সরবরাহ না করেই এই জুয়া চক্রের হাতে চলে যায় এজেন্ট সিম ও ভিন্ন তরিকায় চলে এই টাকার লেনদেন।

‎একজন বিগ মাস্টার এজেন্ট এর মুভক্যাশ সহ বিকাশ, নগদ, রকেটের পেমেন্ট, এজেন্ট, পার্সোনাল একাউন্টে সব সময় কোটিকোটি টাকা থাকে। যেকারনে তারা সব সময় নিরাপদে থাকার চেষ্টা করে।

‎এদিকে দেশের আরেক বিগ মাস্টার এজেন্ট মেহেরপুরের মুরশীদ আলম লিপুকে গত বছর আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল। অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, অভিযানের ঘটনাস্থল কাগজ কলমে মামলার বাদী রইচপুর বাইপাস সড়ক দেখালেও, ওপেন সিক্রেট হলো দীর্ঘ সাত মাস লিপু মোজাফ্ফার গার্ডেন নামক রিসোর্টের জাহাজবাড়ি নামক ভবনে অবস্থান করছিলো। সকলের মাঝে চাওর আছে মাশওয়ারা ও উপঢৌকনে কমতি হলেই আটক হয় এই এজেন্টরা। অভিযানের ঘটনাস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে মামলার বাদি বলতে পারবে, ঘটনাস্থান যেটাই হোক তদন্তে সঠিকটা বেড়িয়ে আসবে।

‎শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরা নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে তারা প্রকৃত অপরাধি, ভৌগলিক সমস্যার কারনে এরা সংবাদ পেয়ে যায়। ওই এলাকায় যেতে গেলে একটা ফেরী পার হতে হয় এবং এরা খুবই চালাক পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, তাকে ধরতে জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় একটা টিম গঠন করেছেন।

‎স্থানীয়রা জানান, ওয়ান এক্স বেট সম্রাট এর বিরুদ্ধে কোন কিছু বলতে গেলে, রাহাতে ডান হাত তার তৈবুর ইসলাম অস্ত্র সহ মহড়া দেয়। কিছু দিন আগে রাহাতের ডান হাত তৈবুর অস্ত্র সহ মহড়া দেয়ার সময় এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। ওয়ান এক্স বেট সম্রাট রাহাত এর বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই।

‎স্থানীয়রা আরো জানান, চুরি ছ্যাচড়ামির মত ছোট খাটো অপরাধ পুলিশের অগোচরে করা গেলেও, ওয়ান এক্স বেট সম্রাট রাহাতের মত সঙ্গবদ্ধ চক্র পুলিশ প্রসাশন ম্যানেজ না করে তাদের অপকর্ম

‎চালোনো প্রায় অসম্ভব। সচেতন মহল ও এলাকাবাসী এদেরকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন

আমাদের সম্পর্কে

দৈনিক সাতক্ষীরা বার্তা একটি অনলাইন সংবাদ পোর্টাল, যা বাংলাদেশে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ প্রকাশ করে।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মীর আবু বকর
মোবাইলঃ ০১৭২০৫৫৮৯১৫
আইন উপদেষ্টাঃ এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মহিদার রহমান

ফেসবুকে নিউজ পেতে ফলো করুন

© ২০২৫ দৈনিক সাতক্ষীরা বার্তা । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
কারিগরি সহযোগিতাঃ দেশি হোস্টিং, আমঝুপি, মেহেরপুর।